কাজের সুযোগ : সফল উদ্যোক্তা

চারবন্ধু মিলে সিদ্ধান্ত নিলো যে তারা ব্যবসা করবে । কিন্তু কি ব্যবসা করবে ? অনেক ভেবেও তারা ঠিক করতে পারলো না যে, কিসের ব্যবসা করবে ? একজন প্রতিবেশি তাদের বুদ্ধি দিলে যে, এলাকাতে অনেক বাড়ীতেই, অনেকের গাড়ী আছে কিন্তু এলাকাতে গাড়ী মেরামত করবার কোন গ্যারেজ নেই । তাই এলাকাতে একটি গাড়ী মেরামত করবার গ্যারেজ দিলে, ভাল ব্যবসা হবে । চারবন্ধু চিন্তা করে দেখলো যে, আসলে তো ঠিক । তারা সিদ্ধান্ত নিলে যে, একটা গাড়ী মেরামত করবার জন্য একটি গ্যারেজ খুলবে । যেই চিন্তা, সেই কাজ, কিছু দিনের মধ্যেই চার বন্ধু অনেক উৎসাহ, উদ্দীপনা, পরিশ্রম করে একটি গাড়ী মেরামত করবার গ্যারেজ দিলে । একদিন যায়, দুইদিন যায়, এক সপ্তাহ যায়, দুই সপ্তাহ যায়, এক মাস যায়, দুই মাস যায়, ছয় মাস যায় কিন্ত কেও কোন গাড়ী মেরামত করার জন্য তাদের গ্যারেজে আসে না । এ দিকে তাদের ব্যবসার মুলধন শেষ হতে, হতে লাল বাতি জ্বলবার যোগার হয়েছে ।

এবার জিগ্বাসা করুন কেন তাদের গাড়ী মেরামত করবার গ্যারেজে, কোন গাড়ী মেরামত করবার জন্য আসেনি ?

কারণ তাদের গ্যারেজটি ছিল একটি বাড়ীর দোতলায় ? তাই কোন উপায়ই ছিল না, যে কোন ক্রেতা তাদের গাড়ী মেরামত করবার জন্য তাদের গ্যারেজ এ আসবে ।

কেন এমন হলো: এমন হবার কারন ছিল তারা যে ব্যবসাটি শুরু করেছিল সেই বিষয়ে তাদের চার জনের কারোরই কোন ধারনা ছিল না । ব্যবসা শুরু করবার জন্য প্রতিবেশি যে বুদ্ধি দিয়েছিল সেই বুদ্ধিটা কাজে লাগাবার বা ব্যবসার সুযোগ থাকলেও তাদের ব্যক্তিগত দক্ষতা/গুনাবলীর অভাবে তারা সেই ব্যবসার সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেনি এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে দোতলায় গ্যারেজ থাকলেও বাংলাদেশের পেক্ষাপটে এটি যে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় সে ধারনাটিও তাদের ছিল না ।

যাই হোক ব্যবসায় লোকসান হলেও ব্যবসা না করে তো আর বসে থাকা যায় না । তাই তারা গাড়ী মেরামত করবার গ্যারেজটি বন্ধ করে এবার একটি গাড়ী (টেক্সি ক্যাব) কিনবার সিদ্ধান্ত নিলো । যেই সিদ্ধান্ত, সেই কাজ, কিছু দিনের মধ্যেই আবার মূলধন যোগার করে গাড়ী (টেক্সি ক্যাব ) কিনলো । কিন্তু একদিন যায়, দুইদিন যায়, এক সপ্তাহ যায়, দুই সপ্তাহ যায়, এক মাস যায় কিন্ত কোন প্যাসেন্জার তাদের গাড়ীতে উঠে না ।

এবার জিগ্বাসা করুন কেন তাদের গাড়ীতে কোন প্যাসেন্জার উঠে না ?

কারণ তারা চারজনই তাদের গাড়ীতে উঠে গাড়ীটি চালাতো এবং প্যাসেন্জার খুজতো । চারজন লোক গাড়ীতে থাকলে কেও কি আর গাড়ীতে ( টেক্সি ক্যাব) উঠবে বলুন ।

কেন এমন হলো: এমন হবার কারন হলো তারা যেহেতু যৌথ মালিকানায় ব্যবসাটা শুরু করেছিল, গাড়ীটি (টেক্সি ক্যাব) কিনেছিল তাই তারা সবাই চেয়েছিল সমানভাবে ব্যবসায় সময় দিতে, সমান কন্ট্রিবিউট করতে, ফলে তারা চারজনই একসাথে সমানভাবে সময় দিতে, সমান সময় গাড়ীতে উঠে ঘুড়ে বেড়াতো প্যাসেন্জার এর জন্য য়ার ফলাফল ব্যবসায় আবারও লোকসান, আবারও তাদের মুলধন হারিয়ে পথে বসা । ব্যবসায় সফল হবার জন্য পড়াশোনা, ব্যবসার বিষয়ে (তাত্ত্বিক এবং ব্যবহারিক) ধারনা থাকা, সেই সাথে নিজের ব্যাক্তিগত গুনাবলির সংমিশ্রন ঘটানো । এখন যে কোন উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ীদের কি কি ব্যাক্তিগত গুনাবলী থাকা প্রয়োজন তাহলে, গুনে, গুনে বলা হয়তো সম্ভব হবে না । তবে কিছু ব্যাক্তিগত গুনাবলীর কথা বলা যেতে পারে যেগুলো একজন উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ী যদি আয়ত্ত করতে পারে তাহলে অবশ্যই তার সফল হবার সম্ভাবনা অনেকাংশেই বেড়ে যাবে ।

এমনই কিছু ব্যক্তিগত গুনাবলীর কথা নিচে আলোচনা করা হলো :

সুযোগ সন্ধান করা :

ব্যবসা সংক্রান্ত নতুন নতুন সুযোগ অনুসন্ধান করা এবং এগুলোর উপর কাজ করা ।
আথিক সংস্থান, যন্ত্রপাতি, জমি বা অন্যান্য সহযোগিতার জন্য সম্ভাব্য সুযোগগুলো কাজে লাগানোর চেষ্টা করা ।
অধ্যবসায়:

কোন বাধাকে দুর করতে অবিরাম বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করা ।
কোন কাজ সম্পন্ন করার জন্য ব্যক্তিগত ত্যাগের মতো বিশেষ প্রচেষ্টা চালানো ।
বিরোধিতা বা প্রাথমিক লোকসান সত্ত্বেও নিজের সিদ্ধান্তের প্রতি অটল থাকা ।
কাজের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকা:

গ্রাহকদের জন্য কাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে উদ্ভুত সমস্যাবলীর দায়-দায়িত্ব নেবার মনোভাব রাখা ।
শ্রমিকদের সাথে কাজে লেগে থাকুন এবং তাদের মাধ্যমে কাজগুলো করিয়ে নিন, যাতে গ্রাহকগণ সবসময় সন্তুষ্ট থাকে ।
গুনগত মান ও দক্ষতা :

এমনভাবে কাজ করুন যেন তা প্রচলিত মানের চেয়ে ভাল হয় বা অতীত কাজের চেয়ে উন্নতর হয় ।
গুনগত মান ঠিক রেখে ভালভাবে, দ্রুত ও সস্তায় দক্ষতার সাথে কাজ করবার চেষ্টা করুন ।
ঝুকি গ্রহণ:

উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ীর সহনীয় ক্ষমতা অনুযায়ী ঝুকি গ্রহণ করার মানসিকতা রাখা ।
সহনীয় ঝুকি সম্পন্ন পরিস্থিতিতে যুক্তিযুক্ত অগ্রাধিকার সমূহ প্রদান করা ।
লক্ষ্য ঠিক করা :

স্পষ্ট ও ‍সুনিদিষ্ট লক্ষ্য (স্বল্পমেয়াদী ও দীঘমেয়াদী) তৈরী করুন ।
সুশৃঙ্খল পরিকল্পনা তৈরী করা:

লক্ষ্যে পৌছানোর জন্য যুক্তিসঙ্গত পদক্ষেপসহ পরিকল্পনা তৈরী করুন ও অনুসরন করুন ।
বিকল্প পদক্ষেপগুলো মূল্যায়ন করুন । লক্ষ্য পৌছানোর জন্য প্রয়োজনে বিকল্প পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করুন ।
তথ্য অনুসন্ধান :

ব্যক্তিগতভাবে গ্রাহক, সরবরাহকারী ও প্রতিযোগিদের সম্পকে তথ্য অনুসন্ধান করুন ।
তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও তথ্যগুলোকে কাজে লাগানো ।
প্ররোচনা এবং নেটওয়াকিং:

অন্যদের প্ররোচিত করা বা প্রভাবিত করার সুচিন্তিত কৌশল ব্যবহার করুন ।
নিজের লক্ষ্যে পৌছানোর জন্য ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত যোগাযোগ রক্ষা করে চলুন ।
আত্নবিশ্বাস:

নিজস্ব নৈপূন্য বা দক্ষতার উপর এবং নিজের দৃড় বিশ্বাস থাকতে হবে ।
একটা জটিল কাজ সম্পাদন করতে নিজের সাহায্যের উপর অবিচল আস্থা প্রকাশ করুন ।

এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যক্তিগত গুনাবলীর প্রয়োজন হতে পারে ।

সুত্র ঃ ইন্টারনেট

616total visits,1visits today

Leave a Reply

Be the First to Comment!

avatar
  Subscribe  
Notify of